টলিউডের (Tollywood) দুই গ্ল্যামার কুইন শুভশ্রী গাঙ্গুলী (Subhashree Ganguly) এবং শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় (Shrabanti Chatterjee)। সমসাময়িক অভিনেত্রী হলেও তাঁদের মধ্যে পর্দার লড়াইয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের চর্চাই বেশি শোনা যায় স্টুডিও পাড়ায়। দুজনেই কেরিয়ারের মধ্যগগনে থেকে একে অপরের সাফল্যে বরাবরই চিয়ারলিডার হিসেবে ধরা দিয়েছেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর বিচারকের আসনে তাঁদের একসঙ্গে বসে খুনসুটি এবং একে অপরকে সমর্থন করার দৃশ্য দর্শকদের কাছে ছিল অত্যন্ত প্রিয়। দীর্ঘদিনের এই পেশাদার ও ব্যক্তিগত সখ্যতা টলিপাড়ায় এক অনন্য বন্ধুত্বের উদাহরণ হিসেবেই পরিচিত ছিল।
তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে শুভশ্রীর একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও ক্লিপ। যেখানে শ্রাবন্তীর ব্যক্তিত্ব নিয়ে শুভশ্রীর করা মন্তব্য এক লহমায় বদলে দিয়েছে বিনোদন জগতের আলোচনার মোড়। একটি জনপ্রিয় টক-শোর ‘র্যাপিড ফায়ার’ রাউন্ডে শুভশ্রীকে যখন প্রশ্ন করা হয় যে মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহান এবং শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের মধ্যে কে সবচেয়ে ‘বোকা’, তখন কোনো রাখঢাক না রেখেই শুভশ্রী শ্রাবন্তীর নাম নেন। এই সপাট এবং অপ্রত্যাশিত উত্তর শুনে তখন উপস্থিত সকলেই বেশ অবাক হয়েছিলেন, কারণ শ্রাবন্তীর মতো একজন অভিজ্ঞ অভিনেত্রীকে প্রকাশ্যে ‘বোকা’ বলাটা ছিল যথেষ্ট সাহসের কাজ।
বিতর্ক দানা বাঁধার উপক্রম হতেই শুভশ্রী তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বুদ্ধির অভাব নয়, বরং অতিরিক্ত আবেগই শ্রাবন্তীর প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। শুভশ্রীর মতে, শ্রাবন্তী আসলে একজন ‘ইমোশনাল ফুল’। অর্থাৎ জীবনের বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যুক্তির চেয়ে মন বা আবেগকে বেশি প্রাধান্য দেন। শুভশ্রীর এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত করে যে, শ্রাবন্তী অনেক সময়ই মানুষের ওপর খুব দ্রুত বিশ্বাস করেন এবং সেই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়েই এমন সব কাজ বা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যা পরবর্তীকালে সমালোচনার মুখে পড়ে।
শুভশ্রীর এই মন্তব্য এখন নতুন করে শ্রাবন্তীর ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাইকে চর্চার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, শুভশ্রী হয়তো পরোক্ষভাবে শ্রাবন্তীর একাধিক বিয়ে বা প্রেমঘটিত বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোকেই ইঙ্গিত করেছেন। যদিও শুভশ্রী বিষয়টি বন্ধুত্বের খাতিরেই বলেছিলেন, কিন্তু ভার্চুয়াল জগতের বাসিন্দারা একে ‘বিস্ফোরক মন্তব্য’ হিসেবেই দেখছেন। বিশেষ করে টলিপাড়ার ভেতরেও গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, বন্ধুর এমন সপাট সমালোচনা কি শ্রাবন্তী খুব সহজভাবে নিতে পারবেন?
আরও পড়ুনঃ আইবুড়োভাতের ছবি ঘিরে জল্পনা! সত্যিই কি বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন সৌম্যি চক্রবর্তী?
এই ভাইরাল ভিডিওটি টলিউডের দুই প্রিয় বন্ধুর সম্পর্কের সমীকরণকে আবার নতুন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে যেমন শুভশ্রীর সততা এবং স্পষ্টভাষী স্বভাবের প্রশংসা করছেন অনেকে, অন্যদিকে শ্রাবন্তী ভক্তদের মনে হয়েছে এই তকমা অভিনেত্রীর ইমেজের জন্য কিছুটা নেতিবাচক হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্বে কি এই ‘ইমোশনাল ফুল’ তকমা ফাটল ধরাবে, নাকি আগের মতোই হাসিমুখে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা প্রমাণ করবেন যে প্রকৃত বন্ধুত্বে সমালোচনা করাটাই স্বাভাবিক।





